[english_date]

শিরোনাম

দুর্গোৎসবে অভাবের তাড়নায় প্রতিবন্ধী ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পৃথিবী ছাড়লেন বৃদ্ধা হিন্দু মা

দুর্গোৎসবে  অভাবের তাড়নায় প্রতিবন্ধী ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পৃথিবী ছাড়লেন বৃদ্ধা হিন্দু মা

ডায়াল সিলেট ডেস্ক :-

পৃথিবীর কোটি কোটি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক দেবী দুর্গার সন্তুষ্টি  নিয়ে পূজা-পার্বণে ব্যস্ত। কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে আরাধনায়। সেই দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিনে অভাবের কাছে পরাজিত হয়ে প্রতিবন্ধী ছেলেকে  নিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন এক হিন্দু মা। মর্মান্তিক ঘটনাটি সোমবার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ঘটেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের গোয়ালনগর গ্রামে বিষপানে আত্মহত্যা করেন যোগমায়া দাস (৭২) ও তার প্রতিবন্ধী ছেলে পলাশ দাস (২৯)।

প্রতিবেশীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সিলেটে রেফার করেন। তবে সিলেটে নেওয়ার পথে পলাশ মারা যান। অন্যদিকে যোগমায়াকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে যোগমায়ার স্বামী প্রফুল্ল দাস মারা যান। এরপর থেকেই অভাব-অনটনে জর্জরিত হয়ে পড়েন মা-ছেলে। প্রফুল্ল দাসের পাঁচ ছেলের মধ্যে চারজন আলাদা পরিবার নিয়ে থাকায় প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে একা বসবাস করছিলেন যোগমায়া। দীর্ঘদিন ধরে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। একাকিত্ব, হতাশা ও অর্থকষ্টের কারণেই এ মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গোয়ালনগর গ্রামের ইউপি সদস্য আবিদ মিয়া বলেন, “অভাব-অনটনের কারণেই মা-ছেলে এ পথ বেছে নিয়েছেন। আসলে তারা দীর্ঘদিন ধরেই দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছিলেন।”

মাধবপুর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ-উল্লা জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিষপানের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মাধবপুরসহ পুরো হবিগঞ্জ জেলায় দুর্গাপূজার উৎসবমুখর পরিবেশে মা-ছেলের এমন মৃত্যু দিনভর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।