
সিলেটের সুরমা নদীর ওপর ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজের মেরামত ও সংস্কারকাজ করা শুরু হয়েছে। ব্রিজের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ। হেঁটে পার হচ্ছেন মানুষজন।
সিলেটের কিনব্রিজের সংস্কারকাজ কয়েক দফা পেছানোর পর শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার কিনব্রিজ থেকে পথচারী ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল প্রকৌশল বিভাগ। ব্রিজের দুই পাশে অস্থায়ী লোহার বেষ্টনী দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তবে এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ করা গেলেও পথচারীদের চলাচল বন্ধ করা যায়নি।
আজ সকালে কিনব্রিজ ঘুরে দেখা গেছে, ব্রিজের উত্তর পাশ থেকে মেরামতকাজ শুরু হয়েছে। পাঁচজন শ্রমিক ব্রিজের উত্তর পাশে ঢালাই ভাঙার কাজ করছিলেন। এর পাশ কেটে চলাচল করছিলেন পথচারীরা। এদিকে ব্রিজের নিচে সারি সারি রাখা ছিল স্টিলের পাত। এর মধ্যে একটি পাত ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছিলেন আরেক শ্রমিক। এর পাশে কাঠ দিয়ে ব্রিজে পথ বন্ধ করতে দরজা বানাচ্ছিলেন আরেক শ্রমিক। পাশে বসা ছিলেন ব্রিজ মেরামতকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. শিপন। তিনি বলেন, বিজ্ঞপ্তি দিয়েও পথচারীদের চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না। মেরামত চলাকালে ব্রিজ দিয়ে চলাচলের ঝুঁকি আছে। এ জন্য কাঠ দিয়ে পথচারীদের চলাচল বন্ধ করতে দরজার মতো করে কাঠামো বানানো হচ্ছে।
শিপন বলেন, ব্রিজটি মেরামতের কাজ পেয়েছে ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি আরও কয়েকটি স্টিলের ব্রিজ মেরামত করেছে। ব্রিজের মেরামতকাজ করার জন্য অনেক আগেই মালামাল আনা হয়েছে। তবে পথচারী ও যানবাহন চলাচল বন্ধ না করায় কাজ শুরু করা যাচ্ছিল না। অবশেষে গতকাল থেকে বন্ধ করার পর আজ থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে এর আগেই ব্রিজের নিচে স্টিলের পাত দিয়ে বিভিন্ন কাজ এগিয়ে রাখা হয়েছে। স্টিলের পাত যে স্থানগুলোতে ক্ষয় হয়েছে, সেগুলোতে নতুন পাত লাগানো হবে। এ ছাড়া নিচের কিছু ঢালাই অংশ তোলা হবে। সেগুলোতে নতুন করে ঢালাই করা হবে। স্টিলের ব্রিজটির যেসব নাট-বল্টু ক্ষয় হয়েছে, সেগুলো সংযোজন করা হবে। পরে রং করার কাজ করা হবে। সব কাজ শেষ হলে ব্রিজটি আরও মজবুত ও দৃষ্টিনন্দন হবে।
স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট শহরকেন্দ্রিক সুরমা নদীর ওপর পাঁচটি সেতু আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো ও ব্যস্ততম সেতু কিনব্রিজ। ব্রিজটির এক কিলোমিটারের মধ্যে আছে আরও দুটি সেতু। বর্তমানে দুটি সেতু দিয়ে বিকল্প হিসেবে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। এর মধ্যে কিনব্রিজ মেরামতকালে নগরের মেন্দিবাগ এলাকা দিয়ে শাহজালাল সেতু এবং নগরের কাজীর বাজার এলাকার কাজীর বাজার সেতু বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করছেন পথচারীরা।
কিনব্রিজ দিয়ে আজ সকালে দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা থেকে বন্দরবাজারের দিকে আসা পথচারী মো. শেখ অপু বলেন, কিনব্রিজ পাড়ি দিলেই ভার্থখলা। ব্যবসার সূত্র ধরে প্রতিদিনই কিনব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করতে হয় তাঁকে। অন্য ব্রিজগুলো অনেকটা দূরে। এ জন্য মেরামতকাজ চললেও সুরমা নদীর কিনব্রিজ দিয়ে চলাচল করছেন তিনি। তবে একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প সেতু দিয়ে বাধ্য হয়ে চলাচল করতে হবে তাঁকে।
এদিকে ব্রিজ মেরামতের কাজ চললেও ব্রিজের ওপর হকারদের পসরা সাজিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। হকাররা বলেন, ব্রিজের ওপর পথচারী চলাচল বেশি থাকায় বেচাকেনা ভালো। এ জন্য তাঁরা এখানেই বেচাকেনা করেন। গতকাল থেকে ব্রিজ বন্ধ হলেও পথচারী চলাচল রয়েছে।
গত মঙ্গলবার রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল প্রকৌশল বিভাগ থেকে ব্রিজের দুই পাশে বিজ্ঞপ্তি টাঙানো হয়। এতে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ব্রিজটি বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়। যদিও এর আগে ২৪ জুলাই রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগ থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দুই মাসের জন্য কিনব্রিজ সংস্কারের জন্য বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছিল। তবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ায় এত দিন ব্রিজটি দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই যান চলাচল করছিল।
কিনব্রিজের তদারককারী প্রতিষ্ঠান সিলেট সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। আর সংস্কারকাজ করছে রেলওয়ের সেতু বিভাগ। সওজ সূত্রে জানা গেছে, জরাজীর্ণ কিনব্রিজ সংস্কারের বিষয়ে ২০২০ সালে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে