[english_date]

পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালের ‘ভূত’ তাড়াবে নিউ জিল‌্যান্ড?

স্পোর্টস ডেস্ক :: গল্পগুলো একই হবে কি না জানা নেই কারও। তবে আলোচনা হচ্ছে, তর্ক হচ্ছে। কফির চুমুকে চুমুকে বলা হচ্ছে, এ-জিতবে, ও-হারবে। দেখানো হচ্ছে নানা যুক্তি, টানা হচ্ছে নানা ইতিহাস।
বিভিন্ন সময়ে আইসিসির তিনটি ইভেন্টের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান ও নিউ জিল‌্যান্ড। কিউইদের একবারও জিততে না দিয়ে প্রতিবার ফাইনাল খেলেছিল পাকিস্তান। এবারও কি তেমন কিছুই হবে নাকি ব‌্যর্থতার গেরো ছুটিয়ে নিউ জিল‌্যান্ড টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলবে? উত্তরটা জানার জন‌্য বুধবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।
ইতিহাস ও ঐতিহ‌্যের ভেন্যু সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যতগুলো ম‌্যাচ হয়েছে সবগুলোই প্রায় হাইভোল্টেজ। সবচেয়ে বড় মহারণটা বুঝি বুধবারই। যেখানে স্থানীয় সময় সন্ধ‌্যা সাতটায় প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও নিউ জিল‌্যান্ড।
বিরানব্বই, নিরানব্বইয়ের পর দুই হাজার সাত। প্রথম দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ, পরেরটা টি-টোয়েন্টি। এই তিন আসরে আইসিসি ইভেন্টে পাকিস্তান ও নিউ জিল‌্যান্ড ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নেমেছিল। কিন্তু বারবারই কিউইদের হৃদয় ভেঙেছে পাকিস্তান।
শুরুটা বিরানব্বইয়ের ইমরান খানের বিশ্বকাপ জয় দিয়েই। সেবার সেমিফাইনালে নিউ জিল‌্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়েছিল পাকিস্তান। বলা হয় ওই ম‌্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন ইনজামাম উল হক। পাকিস্তানের সব ব‌্যাটসম‌্যানরা যখন নিউ জিল‌্যান্ডের দেওয়া ২৬৩ রানের লক্ষ‌্য তাড়া করতে গিয়ে ভূপাতিত, তখন দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ইনজামাম। মাত্র ৩৭ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে তোলেন ফাইনালে। এরপর পাকিস্তানের প্রথম বিশ্বকাপ জয়।
নিরানব্বইয়ের বিশ্বকাপে ফিরে আসে বিরানব্বই। সেবার অবশ‌্য নিউ জিল‌্যান্ডকে দাঁড়াতেই দেয়নি পাকিস্তান। ম‌্যানচেস্টারে সাঈদ আনোয়ারের অপরাজিত ১১৩ রানে নিউ জিল‌্যান্ড যেন পাড়ার দল। এই দুই দল ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরের সেমিফাইনালও খেলেছিল। কেপটাউনে সেই একই ফল। ইমরান নাজিরের ঝড়ো ব‌্যাটিং আর উমর গুলের আগুনে বোলিংয়ে কিউইরা যেতে পারেনি স্বপ্নের ফাইনালে।
২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্মৃতি কেন উইলিয়ামসনের মনে থাকলেও নিরানব্বই বা বিরানব্বই তার ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ইমরান খান যখন ট্রফি উঁচিয়েছিলেন মেলবোর্নে, তখন পৃথিবীর আলো দেখেননি তিনি। নিরানব্বইয়ে তার বয়স কেবল দুই। সিডনির প্রেস কনফারেন্সে নানা আলোচনায় সেসব কথাও উঠে আসলে তার উত্তর, ‘আমার আসলে সেসব দিনের কথা কিছুই মনে নেই। আমার বয়স কেবল দুই ছিল (নিরানব্বই বিশ্বকাপ)। তবে আমাদের নিউ জিল‌্যান্ডের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। বেশ কিছু ভালো মুহূর্ত রয়েছে। এই মুহূর্তে আগে কী হয়েছে তা নিয়ে একদমই ভাবছি না। আমরা সেমিফাইনালের ম‌্যাচ নিয়েই ভাবছি যেটা আমাদের জন‌্য খুব প্রয়োজনীয়।’
এবারের বিশ্বকাপে নিউ জিল‌্যান্ডের সফর শুরু হয়েছিল দুর্দান্তভাবে। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে এই সিডনিতেই কাঁপিয়ে দিয়েছিল তারা। যে ধাক্কা দিয়েছিল তাতে শেষ চারে খেলা হয়নি স্বাগতিকদের। এরপর প্রত‌্যাশিত জয় পায় শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল‌্যান্ডের বিপক্ষে। ইংল‌্যান্ডের বিপক্ষে মাঝে হোঁচট খেলেও নিজেদের বেশ শক্ত অবস্থানে রেখে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে নাম তোলে তারা। এবার সেমিফাইনালের মঞ্চে কেমন করে সেটাই দেখার।
পাকিস্তানের পথ চলা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। প্রথম ম‌্যাচেই মেলবোর্নে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে হারের পর জিম্বাবুয়ের কাছেও হেরে যায়। তৃতীয় ম‌্যাচে তারা প্রথম জয় পায় নেদারল‌্যান্ডসের বিপক্ষে, পরে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায়। শেষ ম‌্যাচে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কাছে সমান সুযোগ ছিল সেমিফাইনালে যাওয়ার। কিন্তু বাংলাদেশ সেই সুযোগটি নিতে ব্যর্থ হলে বাবর আজমরা আরও একবার শেষ চারে।
বাবর আজমরা বিরানব্বইয়ের বিশ্বকাপ থেকে প্রভাবিত হচ্ছে বলে দাবি করলেন দলটির ব‌্যাটিং কোচ ম‌্যাথু হেইডেন, ‘হয়তো সরাসরি কোনও যোগাযোগ নেই বিরানব্বইয়ের বিশ্বকাপের সঙ্গে। কিন্তু আমরা নিশ্চিতভাবেই ওই স্মৃতি থেকে প্রভাবিত হচ্ছি। আমরা প্রত‌্যেকেই এই প্রতিযোগিতার গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা বুঝছি। পাকিস্তান ক্রিকেটের জন‌্য বিরানব্বইয়ের ক্রিকেট বড় প্রভাব রেখেছিল।’
‘পাকিস্তানের সেবারও বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো ছিল না। কিন্তু নক আউটে চলে আসার পর দারুণভাবে নিজেদের ফিরে পায় এবং বিশ্বকাপ জেতার মতো পারফরম‌্যান্স করে। এটাই বড় প্রতিযোগিতার ছন্দ। আপনি জানবেনও না কখন আপনি দৌড়ে টিকে আছেন। ’- যোগ করেন হেইডেন।
পাকিস্তান গতবার সেমিফাইনাল খেললেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যায়। নিউ জিল‌্যান্ড ফাইনাল খেললেও জিততে পারেননি শিরোপা। শিরোপা জেতার সুযোগ আছে দুই দলেরই। কখনও বিশ্বকাপ জিততে না পারা নিউ জিল‌্যান্ড আরও একবার ফাইনাল খেলবে নাকি পাকিস্তান ১৩ বছর পর ফাইনালে যাবে। সিডনিতে কাল রাতেই হবে ফয়সালা।

`);printWindow.document.close(); }) .catch(error => console.error("Error loading print page:", error)); }); });