[english_date]

সাপের কামড়ে পর পর দুই তরুণের মত্যু আহত এক হন নারী

মনজু চৌধুরী॥  মৌলভীবাজারে বন্যা কবলিত এলাকায় সাপের কামরে আরো এক যুবুক মারা গেছেন। এ নিয়ে মৌলভীবাজার সদর ও কুলাউড়া দুই উপজেলা মারা গেলেন দুইজন। আর কামড়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন জুড়ি উপজেলার আরেক এক নারী।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: হুমায়ূন কবির জানান, ২৩ জুন রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আপার কাগাফলা ইউনিয়নের পদুনা পুর গ্রামে বন্যার পানিতে একটি সাপ ইমরান আহমদ (১৮) নামের এক তরুণকে কামড় দেয়। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর কি সাপে কামড় দিয়েছে তা নিশ্চিত করতে না পাড়ায় তাকে পাঠানো হয় সিলেটে।

কাগাবলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমন মোস্তফা ইমরান জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে  ইমরানকে সাপে কামড় দেয়।  পরে স্থানীয়রা মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু ২৫০ শয্যা হাসপাতালে সাপে কাটা রুগীর ভ্যাকসিন না দেয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে শুক্রবার সকালে ইমরান আহমদের মৃত্যু হয়।

পদুনাপুর গ্রামের বাসিন্দা রুহেল আহমদ জানান, “ ইমরানের বাড়িতে বন্যার পানি উঠায় তার পরিবার আমাদের বাড়িতে উঠেন।” বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে আমাদের বাড়িতে আসার সময় একটি অজ্ঞাত বিষাক্ত সাপ ইমরানকে  কামড় দেয় বলে জানান তিনি।।

তিনি জানান, প্রথমদিকে তেমন ব্যথা না হওয়ায়  ইমরানের পরিবারের  প্রাথমিক ধারণা ছিলো এটা ধোরা  বা বিষহীন কোনো সাপ হতে পারে। রাতে সে ঘুমিয়ে পড়ে।  প্রায় দুই ঘন্টা পর হঠাৎ  তীব্র ব্যথায় সে ঘুম থেকে উঠে । তাকে দ্রুত মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেটে রেফার করে । ভোর রাতেই তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সাপে কাটার ভ্যাকসিন এন্টি ভেনম দেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া সময় শুক্রবার সকালে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

এদিকে গত ২১জুন রাতে জেলার কুলাউড়া উপজেলার পৌর এলাকার ৮ নং ওয়ার্ডের বাদে মনসুর গ্রামের মাখন মিয়ার ছেলে শিপু আহমদ বিষাক্ত সাপের কামড়ে মারা যায়।

কুলাউড়া পৌরসভার ৮ নং ওর্য়াডরে কাউন্সলির আতাউর রহমান চৌধুরী সোহলে জানান,  গত ২০ জুন সোমবার রাতে কুলাউড়া উছলাপাড়ার পশ্চিম পাশের জলাধারে মাছ ধরতে নামেন শিপু। এ সময় তাকে একটি সাপে কামড় দিলে একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয় পরিবারের লোকেরা রাতেই কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আল মামুন জানান, সাপের কামড়ে মৃত শিপুকে বাঁচাতে তার পরিবার ওঝার শরণাপন্ন হয়। ওঝা এসে ওই এলাকায় শিপুকে ছোবল দেওয়া সাপের খোঁজ করেন। কিন্তু সাপটিকে খোঁজেনা পেয়ে তার পক্ষে তাকে বাঁচানো সম্ভবনয় বলে তিনি চলে যান।

এছাড়াও গত ২১ জুন রাতে জেলার জুড়ী উপজেলায় মাজেদা বেগম (৩০) নামে এক  নারী সাপের কামড়ে আহত হন।

মাজেদা বেগমের স্বামী খোকন আহমদ জানান, বাড়ীতে বন্যার পানি উঠায় তিনি স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে উপজেলার  চৌমুহনীতে নিজ ফার্নিসারের দোকানের গোডাউনে (গুদামে) উঠেন। এ সময় গোডাউনের কাঠের নিচে লুকিয়ে থাকা একটি সাপের কামড়ে আহত হন তার স্ত্রী। পরে তাঁকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ীতে ফিরেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী সফিক আহমদ জানান, কামড় দেওয়া সাপটি ছিলো দুধরাজ সাপ। উৎসুক জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলে।

মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাজহারুল ইসলাম জানান, সাপের কামড়ে আহত নারীকে চিকিৎসা শেষে বাড়ীতে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শ্যামল কুমার মিত্র জানান, বর্তমানে পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামাঞ্চল। তলিয়েছে গ্রামীণ ঝুপঝাড়। সাপের আবাসস্থলগুলোও এখন পানিতে নিমজ্জিত। শুকনো জায়গা গুলোতে সাপেরোও আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করবে। এই সময়ে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।